যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকার ১৭ বছর ধরে শুধু নিজেদের উন্নয়ন করেছে। দেশ, জাতি ও যুবসমাজের উন্নয়নে তাদের কোনো ভূমিকা ছিল না। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও তারা কিছু করেনি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ভোলা শিল্পকলা একাডেমি
মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান
অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন
প্রতিমন্ত্রী। যুব ও ক্রীড়া
মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের
‘ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ’ প্রকল্পের অষ্টম ব্যাচ এবং ‘এআই প্রশিক্ষণ’
প্রকল্পের দ্বিতীয় ব্যাচের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম উদ্বোধন উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন
করা হয়।
আমিনুল হক বলেন, যুবকদের
প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রতিটি ঘরে কর্মসংস্থানের সুযোগ
তৈরি করতে চায় সরকার।
ফ্রিল্যান্সিং ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
(এআই) বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে তথ্যপ্রযুক্তিতে তরুণদের
দক্ষ করে তোলার উদ্যোগ
নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে তাঁরা
নিজেরাই উপার্জনের পথ খুঁজে নিতে
এবং পরিবারকে স্বাবলম্বী করতে পারবেন।
শিশুদের অতিরিক্ত প্রযুক্তিনির্ভরতা কমানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সন্তানদের ডিভাইসের আসক্তি থেকে দূরে রাখতে
চায় সরকার। এ লক্ষ্যে চতুর্থ
শ্রেণি থেকে পাঠ্যপুস্তকে ‘খেলাধুলা’
নামে একটি বই যুক্ত
করে তা বাধ্যতামূলক করা
হচ্ছে। খেলাধুলায় শিশুদের আগ্রহ বাড়িয়ে সমাজে গুণগত পরিবর্তন আনা এর উদ্দেশ্য
বলে জানান তিনি।
মাদকমুক্ত সমাজ গঠনেও খেলাধুলার
বিকল্প নেই বলে মন্তব্য
করেন আমিনুল হক। তিনি বলেন,
তৃণমূল পর্যায় থেকে দক্ষ খেলোয়াড়
তৈরি করে জাতীয় পর্যায়ে
তাঁদের ভূমিকা রাখার সুযোগ করে দিতে প্রতিটি
উপজেলায় একটি করে স্টেডিয়াম
নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি
ভোলার প্রতিটি উপজেলায় একটি করে কম্পিউটার
ল্যাব স্থাপনের ঘোষণাও দেন তিনি।
ভোলা জেলা প্রশাসক
ডা. শামীম রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন যুব ও
ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুবুর
উল আলম, যুব উন্নয়ন
অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন,
ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ আলম, ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের
সচিব ড. শেখ মো.
জোনায়েদ হোসেন, ভোলা জেলা পরিষদের
প্রশাসক ও জেলা বিএনপির
আহ্বায়ক আলহাজ গোলাম নবী আলমগীর এবং
ভোলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ কাওসার।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে
বিভিন্ন ব্যাচের ফ্রিল্যান্সিং ও এআই প্রশিক্ষণার্থী
এবং জেলা যুব ও
ক্রীড়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। জেলা বিএনপির সদস্যসচিব
আলহাজ রাইসুল আলম ও যুগ্ম
আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির সোপানও অনুষ্ঠানে
অংশ নেন।
অনুষ্ঠান শেষে প্রতিমন্ত্রী ফ্রিল্যান্সিং
প্রশিক্ষণের অষ্টম ব্যাচ ও এআই প্রশিক্ষণের
দ্বিতীয় ব্যাচের কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। পরে প্রকল্পের ছয়জন
দক্ষ প্রশিক্ষণার্থীর হাতে উপহার হিসেবে
একটি করে কম্পিউটার তুলে
দেন তিনি। এর আগে সকালে
প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্ভাবিত একটি বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট
উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী।