ঢাকা    শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল

ট্রাকচালক নয়ন মন্ডল ছাত্রদলের বড় পদে



ট্রাকচালক নয়ন মন্ডল ছাত্রদলের বড় পদে
ছবি: সংগ্রহ

পেশায় ট্রাকচালক। অভিযোগ রয়েছে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা না করেও কম্পিউটারের দোকান থেকে ৬০০ টাকার বিনিময়ে তৈরি করা সনদ দিয়ে ছাত্রদলের পদ নিয়েছেন নয়ন মন্ডল। বর্তমানে ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের ৭৮৯ সদস্যের কমিটিতে তিনি সহসাধারণ সম্পাদক হিসেবে রয়েছেন।

নয়ন মন্ডলের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ, ছাত্রদলের পদ ব্যবহার করে তিনি ফুলছড়ি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকসহ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছেন। সম্প্রতি সার ডিলার নিয়োগকে কেন্দ্র করে ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের কাছেও তিনি নিজের পদ-পদবি ব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

সার ডিলার নিয়োগসংক্রান্ত একটি এনএসআই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নয়ন মন্ডল ঘোড়াঘাট উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা। নদীভাঙনের কারণে তাঁর পরিবার ১০ থেকে ১২ বছর ধরে সেখানে বসবাস করছে। ফুলছড়িতে তাঁর বাড়িঘর বা ব্যবসা নেই। তবে ভোটার তথ্য অনুযায়ী, তিনি ফুলছড়ি উপজেলার নদীভাঙনকবলিত এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার।

ফুলছড়ি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম সরকার বলেন, নয়ন মন্ডলকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে চেনেন না। সার ডিলার নিয়োগের বিষয়ে নয়ন তাঁকে ফোন করে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের এজিএস পরিচয় দিয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছিলেন। পরে খোঁজ নিয়ে তাঁরা জানতে পারেন, তিনি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নন; ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সহসাধারণ সম্পাদক।

আব্দুস সালাম সরকারের ভাষ্য, নয়ন মন্ডলের ফুলছড়িতে কোনো ব্যবসা বা বাড়িঘর নেই। এ কারণে উপজেলা সার ডিলার কমিটির সভা থেকে তাঁর নাম বাদ দিয়ে জেলায় সুপারিশ পাঠানো হয়েছিল। তবে পরে তাঁর নাম মন্ত্রণালয়ে যাওয়ার কথা শুনে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন।

স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, জীবিকার প্রয়োজনে ২০০৮-০৯ সালের দিকে ঢাকায় আসেন নয়ন মন্ডল। প্রথমে আওয়ামী লীগ নেতা ও নিটল-টাটা গ্রুপের চেয়ারম্যান মাতলুবুর রহমানের ব্যক্তিগত গাড়িচালক হিসেবে কাজ করেন। ২০১৬ সাল পর্যন্ত সেখানে চাকরি করার পর একই বছরের আগস্টে অনলাইন সুপারশপ দারাজ বাংলাদেশে চালক হিসেবে যোগ দেন। দারাজের প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা কর্নেল (অব.) মোস্তফা জামান খান জানিয়েছেন, নয়ন এখনো প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত।

২০২১ সালে জসিম শিকদার রানা ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের আহ্বায়ক হওয়ার পর নয়ন তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। অভিযোগ রয়েছে, নিজের চালকের পেশা গোপন করে সরকারি তিতুমীর কলেজের ছাত্রদলের কর্মী হিসেবে পরিচয় দেন তিনি। পরে বনানী থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়ক হন।

ওই কমিটিতে নয়ন মন্ডল যে এসএসসি সনদ জমা দিয়েছিলেন, সেটি রামপুরার একটি কম্পিউটারের দোকান থেকে ৬০০ টাকার বিনিময়ে তৈরি করা হয়েছিল বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে—এমন দাবি করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

বনানী থানা ছাত্রদলের ওই কমিটির আহ্বায়ক এবং বর্তমানে ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সহসভাপতি আশরাফুল ইসলাম বলেন, নয়ন মন্ডলের জমা দেওয়া এসএসসি সনদটি তখনই জাল বলে প্রমাণিত হয়েছিল। তবে ওপরের নেতাদের চাপের কারণে তাঁকে কমিটিতে রাখতে হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।

আশরাফুল ইসলামের ভাষ্য, কমিটি গঠনের আগে তিনি নয়নকে চিনতেন না। কমিটি হওয়ার পর দেড় থেকে দুই বছরে তাঁকে মাত্র একটি কর্মসূচিতে দেখা গেছে। তাঁর জানামতে, নয়ন এখনো দারাজের আন্তজেলা ট্রাকচালক হিসেবে কাজ করছেন।

ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সভাপতি সালাউদ্দিন বলেন, নয়ন মন্ডল পেশায় চালক হয়ে থাকলে এবং ভুয়া সনদ ব্যবহার করে পদ নিয়ে থাকলে যথাযথ প্রমাণ সংগ্রহ করে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পদ ব্যবহার করে অন্যায্য সুবিধা নেওয়া বা কাউকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেলেও সাংগঠনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।

ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান লিপকন বলেন, এত বড় কমিটিতে সবাইকে ব্যক্তিগতভাবে চেনা সম্ভব নয়। তিনি নয়ন মন্ডলকে চেনেন না। তবে তথ্য গোপন করে ও ভুয়া সনদ দিয়ে পদ নেওয়ার অভিযোগ সত্য হলে বিষয়টি গুরুতর এবং প্রমাণ পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির বলেন, পেশায় চালক হলে ছাত্রদল করার সুযোগ নেই; এ ক্ষেত্রে অন্য সংগঠনে যুক্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। পরিচয় গোপন করে ছাত্রদল করার সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে পরে কথা বলবেন বলে জানান।

কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে নয়ন মন্ডলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। ফলে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিষয় : ছাত্রদল রাজনীতি গাইবান্ধা নয়ন মন্ডল

দৈনিক নবকাল

শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬


ট্রাকচালক নয়ন মন্ডল ছাত্রদলের বড় পদে

প্রকাশের তারিখ : ০২ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

পেশায় ট্রাকচালক। অভিযোগ রয়েছে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা না করেও কম্পিউটারের দোকান থেকে ৬০০ টাকার বিনিময়ে তৈরি করা সনদ দিয়ে ছাত্রদলের পদ নিয়েছেন নয়ন মন্ডল। বর্তমানে ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের ৭৮৯ সদস্যের কমিটিতে তিনি সহসাধারণ সম্পাদক হিসেবে রয়েছেন।

নয়ন মন্ডলের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ, ছাত্রদলের পদ ব্যবহার করে তিনি ফুলছড়ি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকসহ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছেন। সম্প্রতি সার ডিলার নিয়োগকে কেন্দ্র করে ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের কাছেও তিনি নিজের পদ-পদবি ব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

সার ডিলার নিয়োগসংক্রান্ত একটি এনএসআই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নয়ন মন্ডল ঘোড়াঘাট উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা। নদীভাঙনের কারণে তাঁর পরিবার ১০ থেকে ১২ বছর ধরে সেখানে বসবাস করছে। ফুলছড়িতে তাঁর বাড়িঘর বা ব্যবসা নেই। তবে ভোটার তথ্য অনুযায়ী, তিনি ফুলছড়ি উপজেলার নদীভাঙনকবলিত এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার।

ফুলছড়ি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম সরকার বলেন, নয়ন মন্ডলকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে চেনেন না। সার ডিলার নিয়োগের বিষয়ে নয়ন তাঁকে ফোন করে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের এজিএস পরিচয় দিয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছিলেন। পরে খোঁজ নিয়ে তাঁরা জানতে পারেন, তিনি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নন; ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সহসাধারণ সম্পাদক।

আব্দুস সালাম সরকারের ভাষ্য, নয়ন মন্ডলের ফুলছড়িতে কোনো ব্যবসা বা বাড়িঘর নেই। এ কারণে উপজেলা সার ডিলার কমিটির সভা থেকে তাঁর নাম বাদ দিয়ে জেলায় সুপারিশ পাঠানো হয়েছিল। তবে পরে তাঁর নাম মন্ত্রণালয়ে যাওয়ার কথা শুনে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন।

স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, জীবিকার প্রয়োজনে ২০০৮-০৯ সালের দিকে ঢাকায় আসেন নয়ন মন্ডল। প্রথমে আওয়ামী লীগ নেতা ও নিটল-টাটা গ্রুপের চেয়ারম্যান মাতলুবুর রহমানের ব্যক্তিগত গাড়িচালক হিসেবে কাজ করেন। ২০১৬ সাল পর্যন্ত সেখানে চাকরি করার পর একই বছরের আগস্টে অনলাইন সুপারশপ দারাজ বাংলাদেশে চালক হিসেবে যোগ দেন। দারাজের প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা কর্নেল (অব.) মোস্তফা জামান খান জানিয়েছেন, নয়ন এখনো প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত।

২০২১ সালে জসিম শিকদার রানা ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের আহ্বায়ক হওয়ার পর নয়ন তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। অভিযোগ রয়েছে, নিজের চালকের পেশা গোপন করে সরকারি তিতুমীর কলেজের ছাত্রদলের কর্মী হিসেবে পরিচয় দেন তিনি। পরে বনানী থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়ক হন।

ওই কমিটিতে নয়ন মন্ডল যে এসএসসি সনদ জমা দিয়েছিলেন, সেটি রামপুরার একটি কম্পিউটারের দোকান থেকে ৬০০ টাকার বিনিময়ে তৈরি করা হয়েছিল বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে—এমন দাবি করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

বনানী থানা ছাত্রদলের ওই কমিটির আহ্বায়ক এবং বর্তমানে ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সহসভাপতি আশরাফুল ইসলাম বলেন, নয়ন মন্ডলের জমা দেওয়া এসএসসি সনদটি তখনই জাল বলে প্রমাণিত হয়েছিল। তবে ওপরের নেতাদের চাপের কারণে তাঁকে কমিটিতে রাখতে হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।

আশরাফুল ইসলামের ভাষ্য, কমিটি গঠনের আগে তিনি নয়নকে চিনতেন না। কমিটি হওয়ার পর দেড় থেকে দুই বছরে তাঁকে মাত্র একটি কর্মসূচিতে দেখা গেছে। তাঁর জানামতে, নয়ন এখনো দারাজের আন্তজেলা ট্রাকচালক হিসেবে কাজ করছেন।

ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সভাপতি সালাউদ্দিন বলেন, নয়ন মন্ডল পেশায় চালক হয়ে থাকলে এবং ভুয়া সনদ ব্যবহার করে পদ নিয়ে থাকলে যথাযথ প্রমাণ সংগ্রহ করে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পদ ব্যবহার করে অন্যায্য সুবিধা নেওয়া বা কাউকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেলেও সাংগঠনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।

ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান লিপকন বলেন, এত বড় কমিটিতে সবাইকে ব্যক্তিগতভাবে চেনা সম্ভব নয়। তিনি নয়ন মন্ডলকে চেনেন না। তবে তথ্য গোপন করে ও ভুয়া সনদ দিয়ে পদ নেওয়ার অভিযোগ সত্য হলে বিষয়টি গুরুতর এবং প্রমাণ পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির বলেন, পেশায় চালক হলে ছাত্রদল করার সুযোগ নেই; এ ক্ষেত্রে অন্য সংগঠনে যুক্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। পরিচয় গোপন করে ছাত্রদল করার সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে পরে কথা বলবেন বলে জানান।

কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে নয়ন মন্ডলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। ফলে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


দৈনিক নবকাল

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ কায়েস আহমেদ সেলিম
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নবকাল
ট্রাকচালক নয়ন মন্ডল ছাত্রদলের বড় পদে
0:00 0:00
1.0x