চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে উপাচার্য ভবনে ২০ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে অবরুদ্ধ রয়েছেন উপাচার্য শেখ শরীফুল আলমসহ তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজন। এ অবস্থায় তাঁদের মধ্যে কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। জরুরি চিকিৎসার জন্য সোমবার দিবাগত রাতে উপাচার্য ভবনের সামনে দুটি অ্যাম্বুলেন্স আনা হয়। পরে চুয়েটের চিকিৎসকেরা সেখানে গিয়ে তাঁদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন।
সোমবার দিবাগত
রাতে
গণমাধ্যমের সঙ্গে
কথা
বলার
সময়
উপাচার্য শেখ
শরীফুল
আলম
বলেন,
‘২০
ঘণ্টার
ওপরে
আমরা
অবরুদ্ধ রয়েছি।
অনেকে
শ্বাসকষ্টে ভুগছেন। ঘুমানোর কোনো
স্থান
নেই।
বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় থাকায়
আমরা
অনেক
কষ্টে
আছি।’
চুয়েট সূত্র
জানায়,
রাত
দুইটার
দিকে
শিক্ষার্থীদের পাহারায় চিকিৎসকেরা উপাচার্য ভবনে
প্রবেশ
করেন।
এর
আগে
উপাচার্য নিজেই
অ্যাম্বুলেন্স ও
চিকিৎসকদের ডেকে
পাঠান।
সোমবার সকাল
আটটার
দিকে
ছাত্রদলের নেতাদের নিয়ে
তালা
ভেঙে
২১
দিন
পর
নিজ
দপ্তরে
প্রবেশ
করেন
উপাচার্য শেখ
শরীফুল
আলম।
এ
সময়
তাঁর
সঙ্গে
কয়েকজন
সাবেক
শিক্ষার্থী, বহিরাগত ব্যক্তি ও
অধ্যাপক আরাফাত
রহমান
উপস্থিত ছিলেন।
পরে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যকে চুয়েট
ছেড়ে
যাওয়ার
জন্য
দুপুর
১২টা
পর্যন্ত সময়
বেঁধে
দেন।
তবে
নির্ধারিত সময়ের
মধ্যে
উপাচার্য ও
তাঁর
সঙ্গে
থাকা
ব্যক্তিরা ভবন
ত্যাগ
না
করায়
শিক্ষার্থীরা সেখানে
তালা
লাগিয়ে
দেন।
এতে
তাঁরা
ভবনের
ভেতরে
অবরুদ্ধ হয়ে
পড়েন।
দিনভর উপাচার্য ভবনের
সামনে
অবস্থান নিয়ে
স্লোগান দেন
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে উপাচার্য তাঁদের
সঙ্গে
কথা
বলতে
এগিয়ে
এলে
শিক্ষার্থীরা ‘অনলাইন
ভিসি,
অনলাইন
ভিসি’
এবং
‘যেই
ভিসি
ছাত্র
মারে,
সেই
আমার
না’
বলে
স্লোগান দিতে
থাকেন।
চুয়েট সূত্র
আরও
জানায়,
সোমবার
বিকেলে
শিক্ষার্থীরা উপাচার্য ও
তাঁর
সঙ্গে
থাকা
ব্যক্তিদের জন্য
খাবার
পাঠান।
তবে
রাতে
তাঁদের
মধ্যে
কয়েকজন
অসুস্থ
হয়ে
পড়েন।
এর আগে
রাউজানের সহকারী
কমিশনার (ভূমি)
চুয়েটে
গিয়ে
উপাচার্য ভবনের
বিদ্যুৎ ও
পানির
সংযোগ
চালু
করার
জন্য
শিক্ষার্থীদের অনুরোধ
জানান।
তবে
শিক্ষার্থীরা সেই
প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।
শিক্ষার্থীদের
বাসে
হামলার
অভিযোগ
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ,
সোমবার
বিকেলে
রাউজানের মদুনাঘাটসহ একাধিক
স্থানে
তাঁদের
কয়েকটি
বাসে
হামলা
চালিয়েছেন উপাচার্যের সমর্থকেরা। এতে
বাস
ভাঙচুর
করা
হয়েছে
এবং
কয়েকজন
শিক্ষার্থী গুরুতর
আহত
হয়েছেন।
এ ঘটনার
প্রতিবাদে একই
দিন
বিকেলে
চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে
মানববন্ধন করেন
শিক্ষার্থীরা।
আন্দোলনে বুয়েটের শিক্ষার্থীদের
সমর্থন
চুয়েটের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সমর্থন
জানিয়েছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল ও
প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট)
শিক্ষার্থীরা। এ
ছাড়া
এ
বিষয়ে
বিবৃতি
দিয়েছে
জাতীয়
ছাত্রশক্তি।
অন্যদিকে, চুয়েটের শিক্ষক,
কর্মকর্তা, কর্মচারী ও
স্টাফ
অ্যাসোসিয়েশন বিবৃতি
দিয়ে
অধ্যাপক আবু
সাদাত
মোহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদে
পুনর্বহালের দাবি
জানিয়েছে।
এদিকে অধ্যাপক আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহাল, নতুন উপাচার্যের পদত্যাগ এবং শিক্ষার্থীদের বাসে হামলার ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে মঙ্গলবার রাজধানীর শাহবাগে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন ঢাকায় অবস্থানরত চুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থীরা।