ঢাকা    মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল

শিক্ষার্থীদের শর্তে ক্যাম্পাস ছাড়লেন চুয়েট উপাচার্য


দুলাল সরকার
দুলাল সরকার স্টাফ রিপোর্টার

শিক্ষার্থীদের শর্তে ক্যাম্পাস ছাড়লেন চুয়েট উপাচার্য
ছবি: সংগ্রহ

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) অবরুদ্ধ উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে উদ্ধার করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা ও পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন থেকে তাঁকে বের করে আনা হয়। পরে পুলিশি নিরাপত্তায় অ্যাম্বুলেন্সে করে ক্যাম্পাস ছাড়েন তিনি।

তবে উপাচার্যকে ক্যাম্পাস ছাড়তে একটি শর্ত দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। প্রশাসনিক ভবনের নিচে তাঁকে নামিয়ে আনার পর মাইক হাতে এক শিক্ষার্থী ঘোষণা করেন, ‘ভিসিকে আমরা ক্যাম্পাস থেকে বের হতে দিচ্ছি একটি মাত্র শর্তে, সেটি হলো- তিনি আর চুয়েট ক্যাম্পাসে ফিরবেন না।’

এ সময় ওই শিক্ষার্থীর পাশে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার উপস্থিত ছিলেন। পরে উপাচার্যকে অ্যাম্বুলেন্সে তোলার সময় শিক্ষার্থীরা তাঁকে লক্ষ্য করে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দেন।

এর আগে মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটা ২০ মিনিটের দিকে উপাচার্যকে উদ্ধারে চুয়েট ক্যাম্পাসে যান জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার। জেলা প্রশাসক তাৎক্ষণিকভাবে সাংবাদিকদের বলেন, ‘একজন সম্মানিত শিক্ষক আমাদের কাছে নিরাপত্তা চেয়েছেন, চিকিৎসার জন্য বলেছেন। তাঁকে আমরা নিয়ে যেতে এসেছি। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হবে।’

যেভাবে অবরুদ্ধ হন উপাচার্য

সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে সোমবার সকালে প্রশাসনিক ভবনের মূল ফটকের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। সকাল পৌনে নয়টার দিকে তাঁর ক্যাম্পাসে প্রবেশের পর পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, উপাচার্য বহিরাগত ব্যক্তিদের নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। এর প্রতিবাদে তাঁরা তাঁর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন জোরদার করেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পদত্যাগ না করলে তাঁকে অবরুদ্ধ রাখার ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা। এরপর থেকে নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ ছিলেন উপাচার্য।

২১ সেপ্টেম্বর থেকে অচলাবস্থা

উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে গত ২১ সেপ্টেম্বর থেকে চুয়েটে অচলাবস্থা চলছে। সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে ওই দিন আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। পরে উপাচার্য ভবনে তালা দেওয়া, মুখোশ মিছিল ও চোখ বাঁধা প্রতিবাদ মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন তাঁরা।

একপর্যায়ে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বাত্মক বন্ধের কর্মসূচিও শুরু হয়।

এদিকে নবনিযুক্ত উপাচার্যের ক্যাম্পাসে প্রবেশের প্রতিবাদে সোমবার চুয়েট শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা সমিতি ও স্টাফ অ্যাসোসিয়েশন যৌথভাবে সর্বাত্মক অসহযোগ কর্মসূচি ঘোষণা করে। শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কর্মবিরতির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

বিষয় : উপাচার্য চুয়েট শেখ শরীফুল আলম শিক্ষার্থী আন্দোলন

দৈনিক নবকাল

মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬


শিক্ষার্থীদের শর্তে ক্যাম্পাস ছাড়লেন চুয়েট উপাচার্য

প্রকাশের তারিখ : ১৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) অবরুদ্ধ উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে উদ্ধার করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা ও পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন থেকে তাঁকে বের করে আনা হয়। পরে পুলিশি নিরাপত্তায় অ্যাম্বুলেন্সে করে ক্যাম্পাস ছাড়েন তিনি।

তবে উপাচার্যকে ক্যাম্পাস ছাড়তে একটি শর্ত দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। প্রশাসনিক ভবনের নিচে তাঁকে নামিয়ে আনার পর মাইক হাতে এক শিক্ষার্থী ঘোষণা করেন, ‘ভিসিকে আমরা ক্যাম্পাস থেকে বের হতে দিচ্ছি একটি মাত্র শর্তে, সেটি হলো- তিনি আর চুয়েট ক্যাম্পাসে ফিরবেন না।’

এ সময় ওই শিক্ষার্থীর পাশে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার উপস্থিত ছিলেন। পরে উপাচার্যকে অ্যাম্বুলেন্সে তোলার সময় শিক্ষার্থীরা তাঁকে লক্ষ্য করে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দেন।

এর আগে মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটা ২০ মিনিটের দিকে উপাচার্যকে উদ্ধারে চুয়েট ক্যাম্পাসে যান জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার। জেলা প্রশাসক তাৎক্ষণিকভাবে সাংবাদিকদের বলেন, ‘একজন সম্মানিত শিক্ষক আমাদের কাছে নিরাপত্তা চেয়েছেন, চিকিৎসার জন্য বলেছেন। তাঁকে আমরা নিয়ে যেতে এসেছি। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হবে।’

যেভাবে অবরুদ্ধ হন উপাচার্য

সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে সোমবার সকালে প্রশাসনিক ভবনের মূল ফটকের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। সকাল পৌনে নয়টার দিকে তাঁর ক্যাম্পাসে প্রবেশের পর পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, উপাচার্য বহিরাগত ব্যক্তিদের নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। এর প্রতিবাদে তাঁরা তাঁর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন জোরদার করেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পদত্যাগ না করলে তাঁকে অবরুদ্ধ রাখার ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা। এরপর থেকে নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ ছিলেন উপাচার্য।

২১ সেপ্টেম্বর থেকে অচলাবস্থা

উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে গত ২১ সেপ্টেম্বর থেকে চুয়েটে অচলাবস্থা চলছে। সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে ওই দিন আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। পরে উপাচার্য ভবনে তালা দেওয়া, মুখোশ মিছিল ও চোখ বাঁধা প্রতিবাদ মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন তাঁরা।

একপর্যায়ে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বাত্মক বন্ধের কর্মসূচিও শুরু হয়।

এদিকে নবনিযুক্ত উপাচার্যের ক্যাম্পাসে প্রবেশের প্রতিবাদে সোমবার চুয়েট শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা সমিতি ও স্টাফ অ্যাসোসিয়েশন যৌথভাবে সর্বাত্মক অসহযোগ কর্মসূচি ঘোষণা করে। শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কর্মবিরতির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।


দৈনিক নবকাল

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ কায়েস আহমেদ সেলিম
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নবকাল
শিক্ষার্থীদের শর্তে ক্যাম্পাস ছাড়লেন চুয়েট উপাচার্য
0:00 0:00
1.0x