সরকারের তালিকায় থাকা ১১৭টি অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের বেশিরভাগই এখন বাজারে সহজলভ্য নয়। সরকারি হাসপাতালের ফার্মেসি থেকে শুরু করে বেসরকারি ওষুধের দোকানেও অনেক ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে না। দীর্ঘদিন ধরে সরকার নির্ধারিত দাম অপরিবর্তিত থাকায় উৎপাদন খরচের সঙ্গে দামের সামঞ্জস্য না থাকাকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। ফলে কম দামের প্রয়োজনীয় ওষুধের পরিবর্তে রোগীদের কিনতে হচ্ছে বেশি দামের বিকল্প ওষুধ।
বহুল ব্যবহৃত প্যারাসিটামল ৫০০
মিলিগ্রামের ক্ষেত্রেও সরবরাহে ঘাটতি
রয়েছে।
শতাধিক
কোম্পানির উৎপাদন
লাইসেন্স থাকলেও
সারা
বছর
নিয়মিত
এটি
তৈরি
করে
হাতেগোনা কয়েকটি
প্রতিষ্ঠান। ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগের
মৌসুমে
চাহিদা
বাড়লে
সংকট
আরও
তীব্র
হয়।
তখন
নাপা
এক্সট্রা, নাপা
ওয়ান,
নাপা
র্যাপিড, নাপাডল,
নাপা
এক্সটেন্ড, এইস
প্লাসসহ অতিরিক্ত ফর্মুলেশনের প্যারাসিটামল বেশি
দামে
বিক্রি
হচ্ছে।
অ্যান্টিবায়োটিকেও একই
চিত্র।
অ্যামোক্সিসিলিন ৫০০
মিলিগ্রাম উৎপাদনের লাইসেন্স অর্ধশতাধিক কোম্পানির থাকলেও
নিয়মিত
উৎপাদন
করছে
মাত্র
৮
থেকে
১০টি।
সহজলভ্য না
থাকায়
অনেক
ক্ষেত্রে রোগীদের বেশি
দামের
অ্যান্টিবায়োটিক কিনতে
হচ্ছে।
অথচ
অ্যামোক্সিসিলিন ৫০০
মিলিগ্রামের দাম
প্রায়
সাড়ে
৭
টাকা।
ডক্সিসাইক্লিন ১০০
মিলিগ্রাম আড়াই
টাকা
এবং
ফ্লুক্লাক্সসিলিন ৫০০
মিলিগ্রাম ১৪
টাকা।
বিপরীতে সেফুরক্সিম ও
ক্লাভুরিক অ্যাসিডের ৫০০
মিলিগ্রামের দাম
কোম্পানিভেদে ৫৫
থেকে
৮৫
টাকা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন,
কম
দামের
অত্যাবশ্যকীয় অ্যান্টিবায়োটিক সহজলভ্য হলে
রোগীর
চিকিৎসা ব্যয়
কমার
পাশাপাশি উচ্চ
প্রজন্মের অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ঝুঁকিও
কমবে।
কারণ
অপ্রয়োজনীয়ভাবে দামি
ও
উচ্চ
প্রজন্মের অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সের ঝুঁকি
বাড়তে
পারে।
সিপ্রোফ্লোক্সাসিনের ক্ষেত্রেও কাঁচামাল ও
উৎপাদন
ব্যয়ের
তুলনায়
সরকার
নির্ধারিত দাম
কম
হওয়ায়
অনেক
প্রতিষ্ঠান উৎপাদন
কমিয়ে
দিয়েছে
বলে
সংশ্লিষ্টরা জানান।
একই জেনেরিকের ওষুধ
কোম্পানিভেদে ভিন্ন
দামে
বিক্রির বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।
যেমন
এজিথ্রোমাইসিন ৫০০
মিলিগ্রাম ট্যাবলেটের অনুমোদিত দাম
কোম্পানিভেদে ২৭
থেকে
৫০
টাকা
পর্যন্ত। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ,
একই
ধরনের
কাঁচামাল ও
উৎপাদন
প্রক্রিয়া হলেও
দামের
এমন
পার্থক্য ছোট
ও
মাঝারি
কোম্পানিগুলোর জন্য
বৈষম্য
তৈরি
করছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি ও
ফার্মাকোলজি বিভাগের সাবেক
চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড.
শেখ
জহির
রায়হান
বলেন,
অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের
বৈশিষ্ট্যই হলো
সরকারি-বেসরকারি সব পর্যায়ে এর
সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা।
আন্তর্জাতিক বাজারে
কাঁচামাল ও
জ্বালানির দামসহ
উৎপাদন
ব্যয়
বেড়েছে। তাই
উৎপাদক
ও
নীতিনির্ধারকদের আলোচনার মাধ্যমে এসব
ওষুধের
দাম
পুনর্নির্ধারণ করা
প্রয়োজন।
ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরিচালক ড.
মো.
আকতার
হোসেন
জানান,
অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের
সহজপ্রাপ্যতা নিশ্চিত করা
ও
তালিকা
হালনাগাদসহ বিভিন্ন বিষয়ে
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে টেকনিক্যাল কমিটি
গঠনের
আলোচনা
চলছে।
কমিটি
গঠিত
হলে
তাদের
সুপারিশের ভিত্তিতে সরকার
ও
ঔষধ
প্রশাসন অধিদপ্তর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।