চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভবন দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। প্রতিদিনই ভবনের বিভিন্ন স্থান থেকে ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই রোগীদের চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। কয়েক দফায় পলেস্তারা খসে পড়ে রোগীসহ হাসপাতালের কর্মীরা আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। নার্স ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ভাষ্য, ভয় ও ঝুঁকি নিয়েই তাদের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।
সরেজমিনে
দেখা যায়, হাসপাতালে ভর্তি
রোগীর পাশাপাশি জরুরি বিভাগেও রয়েছে উল্লেখযোগ্য চাপ। শয্যা সংকট
থাকায় অনেক রোগীকে মেঝেতে
রেখে চিকিৎসা দিতে দেখা গেছে।
শিশু রোগীর সংখ্যাই বেশি। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, এসব
শিশুর মধ্যে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও ডেঙ্গু আক্রান্ত
রোগী রয়েছে।
রোগী
ও স্বজনেরা জানান, অতিরিক্ত রোগীর চাপের সঙ্গে যোগ হয়েছে প্রয়োজনের
তুলনায় ওষুধের স্বল্পতা। চিকিৎসক, নার্সসহ প্রয়োজনীয় জনবলও নেই। ফলে সীমিত
সুযোগ-সুবিধার মধ্যে রোগীদের সেবা দিতে গিয়ে
হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতাল
কর্তৃপক্ষকে।
হাসপাতালের
আরএমও ডা. মুমিনুল হক
বলেন, প্রতিদিন নির্ধারিত শয্যার প্রায় দ্বিগুণ রোগীকে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। এতে
চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর চাপ
বাড়ছে। হাসপাতালের সেবার মান বাড়াতে প্রয়োজনীয়
জনবল, ওষুধ ও চিকিৎসা
সরঞ্জাম সরবরাহ করা জরুরি।
উপজেলা
স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. পিনাকী চক্রবর্তী
বলেন, হাসপাতালের বর্তমান অবস্থা বিবেচনায় সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ, নতুন হাসপাতাল ভবন
তৈরি এবং অভ্যন্তরীণ সড়ক
সংস্কার জরুরি হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি
রোগীদের জন্য নিজস্ব অক্সিজেন
প্ল্যান্ট, পর্যাপ্ত সরকারি ওষুধ এবং উন্নত
ল্যাবরেটরি সুবিধা নিশ্চিত করার প্রয়োজন রয়েছে।
হাসপাতাল
কর্তৃপক্ষ বলছে, পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের
পরিবর্তে নতুন ভবন নির্মাণ
এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও জনবল নিশ্চিত
করা গেলে বাঁশখালীর মানুষের
চিকিৎসাসেবা আরও কার্যকরভাবে দেওয়া
সম্ভব হবে।