ঢাকা    রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল

আবারো গণভোট, জানুয়ারিতে সংবিধান সংশোধন


মো: মনির হোসেন পাটোয়ারী
মো: মনির হোসেন পাটোয়ারী স্টাফ রিপোর্টার

আবারো গণভোট, জানুয়ারিতে সংবিধান সংশোধন
ছবি: সংগ্রহ

সংবিধানে মৌলিক পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে আগামী বছরের শুরুতে সংশোধনী বিল পাস করার পরিকল্পনা করছে সরকার। এরপরই এ বিষয়ে গণভোট আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছে সংবিধান সংশোধনে গঠিত বিশেষ কমিটি।

রোববার জাতীয় সংসদ ভবনের ক্যাবিনেট কক্ষে সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির তৃতীয় বৈঠকে এ অবস্থানের কথা জানানো হয়। বৈঠকে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদক, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা অংশ নিয়ে সংবিধান সংশোধনের বিভিন্ন বিষয়ে মতামত দেন। দুপুর আড়াইটায় শুরু হয়ে বৈঠকটি বিকেল সোয়া ৫টা পর্যন্ত চলে।

বৈঠক শেষে দৈনিক দেশ রূপান্তরের সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি সাংবাদিকদের বলেন, সংবিধান সংশোধনের পর আবারও গণভোট আয়োজনের কথা জানিয়েছে বিশেষ কমিটি। কমিটির চেয়ারম্যান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, সংবিধানে মৌলিক পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে গণভোটের বিধান রয়েছে। এবার যেহেতু মৌলিক পরিবর্তন আনা হবে, তাই আবারও গণভোট হবে। এটি সাংবিধানিক গণভোট।

বিশেষ কমিটি জানিয়েছে, আগামী বছরের শুরুতে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই সংবিধান সংশোধন বিল পাস করার আশা করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যেই বিভিন্ন অংশীজনের মতামত নিয়ে বিলটি চূড়ান্ত করার কাজ চলছে।

বৈঠকে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধনের আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে বিরোধী দলকে আস্থায় নিয়ে কমিটির বৈঠকে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

মুস্তাফিজ শফি জানান, সাংবাদিকদের এ আহ্বানের পরিপ্রেক্ষিতে কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিরোধী দলকে বৈঠকে যুক্ত করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে। তবে তারা কমিটির বৈঠকে অংশ নিয়ে মতামত না দিলেও সংসদে সংবিধান সংশোধন বিল উত্থাপিত হলে আলোচনায় অংশ নেবে বলে আশা করছে কমিটি।

তিনি বলেন, বৈঠকে প্রায় ৫০ জন সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন। শুরুতে কমিটির চেয়ারম্যান সালাহউদ্দিন আহমেদ বক্তব্য দেন। সাংবাদিকদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি সংবিধান সংশোধনে এসব মতামত যাতে কার্যকর ভূমিকা রাখে, সে কারণেই তাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য আনার বিষয়েও মতামত দেন সাংবাদিকেরা। মুস্তাফিজ শফির ভাষ্য অনুযায়ী, সাংবাদিকদের অনেকে মনে করেন, প্রধানমন্ত্রীর হাতে অতিরিক্ত ও একচ্ছত্র ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত থাকা রাষ্ট্র ও জাতির জন্য ইতিবাচক হয়নি। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে বেরিয়ে আসতে সংবিধান সংশোধনের সময় এ বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বৈঠকে আরও বলা হয়, সংবিধান সংশোধন জাতীয় ঐকমত্যের বিষয়। বিরোধী দল বিশেষ কমিটিতে না থাকায় তাদের মতামত এখনো পাওয়া যায়নি। এ কারণে তাদের সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। কমিটির চেয়ারম্যান এ বিষয়ে শেষ পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন।

বিষয় : গণভোট সংবিধান সংশোধন জাতীয় ঐকমত্য প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা

দৈনিক নবকাল

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


আবারো গণভোট, জানুয়ারিতে সংবিধান সংশোধন

প্রকাশের তারিখ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

সংবিধানে মৌলিক পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে আগামী বছরের শুরুতে সংশোধনী বিল পাস করার পরিকল্পনা করছে সরকার। এরপরই এ বিষয়ে গণভোট আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছে সংবিধান সংশোধনে গঠিত বিশেষ কমিটি।

রোববার জাতীয় সংসদ ভবনের ক্যাবিনেট কক্ষে সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির তৃতীয় বৈঠকে এ অবস্থানের কথা জানানো হয়। বৈঠকে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদক, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা অংশ নিয়ে সংবিধান সংশোধনের বিভিন্ন বিষয়ে মতামত দেন। দুপুর আড়াইটায় শুরু হয়ে বৈঠকটি বিকেল সোয়া ৫টা পর্যন্ত চলে।

বৈঠক শেষে দৈনিক দেশ রূপান্তরের সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি সাংবাদিকদের বলেন, সংবিধান সংশোধনের পর আবারও গণভোট আয়োজনের কথা জানিয়েছে বিশেষ কমিটি। কমিটির চেয়ারম্যান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, সংবিধানে মৌলিক পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে গণভোটের বিধান রয়েছে। এবার যেহেতু মৌলিক পরিবর্তন আনা হবে, তাই আবারও গণভোট হবে। এটি সাংবিধানিক গণভোট।

বিশেষ কমিটি জানিয়েছে, আগামী বছরের শুরুতে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই সংবিধান সংশোধন বিল পাস করার আশা করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যেই বিভিন্ন অংশীজনের মতামত নিয়ে বিলটি চূড়ান্ত করার কাজ চলছে।

বৈঠকে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধনের আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে বিরোধী দলকে আস্থায় নিয়ে কমিটির বৈঠকে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

মুস্তাফিজ শফি জানান, সাংবাদিকদের এ আহ্বানের পরিপ্রেক্ষিতে কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিরোধী দলকে বৈঠকে যুক্ত করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে। তবে তারা কমিটির বৈঠকে অংশ নিয়ে মতামত না দিলেও সংসদে সংবিধান সংশোধন বিল উত্থাপিত হলে আলোচনায় অংশ নেবে বলে আশা করছে কমিটি।

তিনি বলেন, বৈঠকে প্রায় ৫০ জন সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন। শুরুতে কমিটির চেয়ারম্যান সালাহউদ্দিন আহমেদ বক্তব্য দেন। সাংবাদিকদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি সংবিধান সংশোধনে এসব মতামত যাতে কার্যকর ভূমিকা রাখে, সে কারণেই তাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য আনার বিষয়েও মতামত দেন সাংবাদিকেরা। মুস্তাফিজ শফির ভাষ্য অনুযায়ী, সাংবাদিকদের অনেকে মনে করেন, প্রধানমন্ত্রীর হাতে অতিরিক্ত ও একচ্ছত্র ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত থাকা রাষ্ট্র ও জাতির জন্য ইতিবাচক হয়নি। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে বেরিয়ে আসতে সংবিধান সংশোধনের সময় এ বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বৈঠকে আরও বলা হয়, সংবিধান সংশোধন জাতীয় ঐকমত্যের বিষয়। বিরোধী দল বিশেষ কমিটিতে না থাকায় তাদের মতামত এখনো পাওয়া যায়নি। এ কারণে তাদের সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। কমিটির চেয়ারম্যান এ বিষয়ে শেষ পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন।


দৈনিক নবকাল

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ কায়েস আহমেদ সেলিম
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নবকাল
আবারো গণভোট, জানুয়ারিতে সংবিধান সংশোধন
0:00 0:00
1.0x