ঢাকা    মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল

পীরগাছায় সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে ১ কোটি ৩১ লাখ টাকা লেনদেনের অভিযোগ


মো: পলাশ তুষার পাঠান
মো: পলাশ তুষার পাঠান স্টাফ রিপোর্টার

পীরগাছায় সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে ১ কোটি ৩১ লাখ টাকা লেনদেনের অভিযোগ
ছবি: সংগ্রহ

রংপুরের পীরগাছায় নতুন সার ডিলার নিয়োগকে ঘিরে ১ কোটি ৩১ লাখ টাকা লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। নয়টি ইউনিয়নে নিয়োগের প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নয়জনের নামের একটি তালিকা ছড়িয়ে পড়েছে। ওই তালিকায় উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সম্পাদকের স্ত্রীদের নামও রয়েছে।

স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিযোগ, উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে সার ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে ১৫ লাখ থেকে ২৭ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয়েছে। তাঁদের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, কল্যাণী ইউনিয়নে ১৫ লাখ, ইটাকুমারীতে ১৭ লাখ, অন্নদানগরে ১৫ লাখ, পারুলে ১৮ লাখ, কান্দিতে ২৭ লাখ, ছাওলায় ২৩ লাখ এবং কৈকুড়িতে ১৬ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব টাকার হিসাব যোগ করলে দাঁড়ায় ১ কোটি ৩১ লাখ টাকা।

সর্বোচ্চ ২৭ লাখ টাকা উৎকোচ দেওয়ার অভিযোগে কান্দি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমানের নাম আলোচনায় এসেছে। এ ছাড়া অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন পীরগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম রাঙা। সহযোগী হিসেবে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম ডালেজের নামও স্থানীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগে উঠে এসেছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, পছন্দের ব্যক্তিকে সার ডিলার করতে কোথাও অর্থ লেনদেন এবং কোথাও রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহারের ঘটনা ঘটেছে। এদিকে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়ার পর রংপুর জেলা বিএনপির নেতা জিয়াউর রহমানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

তবে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম ডালেজ। তাম্বুলপুর ইউনিয়নে সার ডিলারের আবেদনে তাঁর স্ত্রীর নাম থাকার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘আমরা রাজনীতি করি, আমাদের স্ত্রীরাই সংসারসহ ব্যবসাবাণিজ্য দেখাশোনা করে থাকেন।’

জেলা বিএনপির সদস্যসচিব পরিতোষ চক্রবর্তীও উপজেলা বিএনপির সভাপতি-সম্পাদকের স্ত্রীদের ডিলারশিপ পাওয়ার সম্ভাবনাকে স্বাভাবিক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর ভাষ্য, ‘উপজেলা বিএনপির সভাপতি-সম্পাদক দীর্ঘ ১৭ বছর অনেক টাকাপয়সা খরচ করে রাজনীতি করেছেন। সেক্ষেত্রে তাঁদের স্ত্রী-কন্যারা ডিলারশিপ পেতেই পারে, এটা স্বাভাবিক ব্যাপার।’

অন্যদিকে পীরগাছার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জায়েদ ইমরুল মুজাক্কিন বলেন, ‘স্বচ্ছতার ভিত্তিতে প্রতি ইউনিয়নে তিনজনের তালিকা তৈরি করে আমরা পাঠিয়েছি। এ ঘটনায় কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তিনিই জবাব দেবেন।’

বিষয় : রংপুর পীরগাছা সার ডিলার ডিলার নিয়োগ

দৈনিক নবকাল

মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬


পীরগাছায় সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে ১ কোটি ৩১ লাখ টাকা লেনদেনের অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

রংপুরের পীরগাছায় নতুন সার ডিলার নিয়োগকে ঘিরে ১ কোটি ৩১ লাখ টাকা লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। নয়টি ইউনিয়নে নিয়োগের প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নয়জনের নামের একটি তালিকা ছড়িয়ে পড়েছে। ওই তালিকায় উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সম্পাদকের স্ত্রীদের নামও রয়েছে।

স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিযোগ, উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে সার ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে ১৫ লাখ থেকে ২৭ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয়েছে। তাঁদের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, কল্যাণী ইউনিয়নে ১৫ লাখ, ইটাকুমারীতে ১৭ লাখ, অন্নদানগরে ১৫ লাখ, পারুলে ১৮ লাখ, কান্দিতে ২৭ লাখ, ছাওলায় ২৩ লাখ এবং কৈকুড়িতে ১৬ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব টাকার হিসাব যোগ করলে দাঁড়ায় ১ কোটি ৩১ লাখ টাকা।

সর্বোচ্চ ২৭ লাখ টাকা উৎকোচ দেওয়ার অভিযোগে কান্দি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমানের নাম আলোচনায় এসেছে। এ ছাড়া অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন পীরগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম রাঙা। সহযোগী হিসেবে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম ডালেজের নামও স্থানীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগে উঠে এসেছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, পছন্দের ব্যক্তিকে সার ডিলার করতে কোথাও অর্থ লেনদেন এবং কোথাও রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহারের ঘটনা ঘটেছে। এদিকে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়ার পর রংপুর জেলা বিএনপির নেতা জিয়াউর রহমানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

তবে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম ডালেজ। তাম্বুলপুর ইউনিয়নে সার ডিলারের আবেদনে তাঁর স্ত্রীর নাম থাকার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘আমরা রাজনীতি করি, আমাদের স্ত্রীরাই সংসারসহ ব্যবসাবাণিজ্য দেখাশোনা করে থাকেন।’

জেলা বিএনপির সদস্যসচিব পরিতোষ চক্রবর্তীও উপজেলা বিএনপির সভাপতি-সম্পাদকের স্ত্রীদের ডিলারশিপ পাওয়ার সম্ভাবনাকে স্বাভাবিক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর ভাষ্য, ‘উপজেলা বিএনপির সভাপতি-সম্পাদক দীর্ঘ ১৭ বছর অনেক টাকাপয়সা খরচ করে রাজনীতি করেছেন। সেক্ষেত্রে তাঁদের স্ত্রী-কন্যারা ডিলারশিপ পেতেই পারে, এটা স্বাভাবিক ব্যাপার।’

অন্যদিকে পীরগাছার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জায়েদ ইমরুল মুজাক্কিন বলেন, ‘স্বচ্ছতার ভিত্তিতে প্রতি ইউনিয়নে তিনজনের তালিকা তৈরি করে আমরা পাঠিয়েছি। এ ঘটনায় কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তিনিই জবাব দেবেন।’


দৈনিক নবকাল

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ কায়েস আহমেদ সেলিম
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নবকাল
পীরগাছায় সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে ১ কোটি ৩১ লাখ টাকা লেনদেনের অভিযোগ
0:00 0:00
1.0x